যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায় : ট্রাম্পের অনেক বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ

একটি মার্কিন আপিল আদালত রায় দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত অধিকাংশ বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ। এই রায়ের ফলে তার পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় অংশ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। রায় অনুযায়ী ট্রাম্পের আরোপিত ‘পারস্পরিক’ শুল্ক, যা বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের ওপর প্রযোজ্য ছিল সেটা এবং পাশাপাশি চীন, মেক্সিকো ও কানাডার ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কও অবৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ৭-৪ ভোটে সিদ্ধান্ত দেয় যে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ)-এর আওতায় বৈধ নয়। আদালত বলেছে, শুল্ক আরোপ করা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না। এটি মূলত কংগ্রেসের এখতিয়ার। ১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত উল্লেখ করে, ১৯৭৭ সালে আইন পাস করার সময় কংগ্রেস কখনো প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে চায়নি। আইনটিতে শুল্ক সম্পর্কিত কোনো সরাসরি উল্লেখও নেই।
রায়ের পর ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, এই রায় যদি বহাল থাকে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করবে। তিনি বলেন, শুল্ক বাতিল হলে দেশ আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং একটি সম্পূর্ণ বিপর্যয় নেমে আসবে।
দুইটি মামলা দায়ের করেছিল ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি মার্কিন অঙ্গরাজ্য। তারা চ্যালেঞ্জ করেছিল ট্রাম্পের ২০২৪ সালের এপ্রিলে দেয়া নির্বাহী আদেশ, যেখানে প্রায় সব দেশের ওপর ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল এবং ডজনখানেক দেশের ওপর ‘পারস্পরিক’ শুল্ক চাপানো হয়েছিল। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ইতিমধ্যেই শুল্কগুলোকে অবৈধ বলেছে। তবে আপিল প্রক্রিয়ার সময় তা স্থগিত রাখা হয়। এই রায় কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর আরোপিত শুল্ককেও বাতিল করেছে, যদিও ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত শুল্ক বহাল থাকবে। কারণ সেগুলো ভিন্ন আইনের আওতায় আনা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউস সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ১৯২৯ সালের মহামন্দার মতো অর্থনৈতিক ধস ডেকে আনতে পারে। রায় কার্যকর হবে ১৪ অক্টোবর থেকে, যাতে প্রশাসন সময় পায় সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার জন্য। এখন প্রায় নিশ্চিত যে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে গড়াবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আদালত কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিস্তৃত নতুন নীতি কার্যকর করার প্রচেষ্টার প্রতি সন্দিহান দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে ছয়জন রিপাবলিকান বিচারপতি রয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে ট্রাম্প নিজেই নিয়োগ দিয়েছিলেন। ফলে চূড়ান্ত লড়াই সেখানে কেমন হয়, তা এখনো অনিশ্চিত।