রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের প্ল্যান
তারেক রহমানের পরিকল্পনার ধারণাটি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে দেখলে এটিকে মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার একটি কাঠামোগত ও দৃষ্টিভিত্তিক রূপরেখা হিসেবে বোঝা যায়। তাঁর বক্তব্যে যে “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” বার্তাটি উঠে এসেছে, তা কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে আসছে, তারই একটি সমন্বিত প্রকাশ। ৩১ দফায় যেমন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতার কথা বলা হয়েছে, তেমনি তারেক রহমানের পরিকল্পনাও রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত নয় বরং জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই পরিকল্পনার সঙ্গে ৩১ দফায় উল্লিখিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বৈষম্যহীন প্রবৃদ্ধির ধারণা যুক্ত। এখানে “ফুল ফান্ডেড প্ল্যান” প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ বিএনপির ঘোষণাপত্রে শুধু কী করা হবে তা নয়, বরং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, দুর্নীতি বন্ধ করা এবং রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থ জোগানের দিকনির্দেশনাও ইঙ্গিত আকারে রয়েছে। অর্থাৎ উন্নয়ন হবে ঋণনির্ভর বা লোকদেখানো নয়, বরং টেকসই ও হিসাবযোগ্য।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের পরিকল্পনার সঙ্গে ৩১ দফার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার বিষয়গুলোও যুক্ত। রাষ্ট্র যেন নাগরিকের ওপর বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়, বরং নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিতকারী হিসেবে কাজ করে-এই দর্শনই এখানে মুখ্য। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পশ্চিমা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তাঁর বক্তব্যে যে বাস্তববাদী প্রশ্নের জন্ম দেয়, যেমন ব্যয় কত, অর্থ আসবে কোথা থেকে, কত মানুষ উপকৃত হবে-এগুলো ৩১ দফার নীতিগত কাঠামোর সঙ্গেই সাযুজ্যপূর্ণ। সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের “প্ল্যান”কে বিএনপির ৩১ দফার আলোকে দেখলে এটি একটি সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ, হিসাবভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা হিসেবে প্রতিভাত হয়, যার বিস্তারিত রূপ ভবিষ্যতে সামনে আসবে-এই প্রত্যাশাই তিনি দেশবাসীর মধ্যে তৈরি করতে চেয়েছেন।
মো: হাফিজ আল আসাদ, কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
