পটুয়াখালী-৩ভোটের মাঠে নুরের চেয়ে মামুন এগিয়ে!
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে ঘোষিত আসন সমঝোতা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হবে-তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এর প্রভাবেই এ আসনের ভোটের সমীকরণ দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। চলছে প্রচার-প্রচারণা। দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জনগন হাসান মামুনের জন্য মরিয়া। এ আসনে বিজয়ের তীর নুরের চেয়ে হাসান মামুন অনেকটা এগিয়ে এমনটাই বলছে স্থানীয় জনগন।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন তৃণমূল বিএনপির রক্ষাকবচ বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপি। তিনি ষোল বছর গলাচিপা-দশমিনা উপজেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের রক্ষাকবচ হয়ে আগলে রেখেছেন বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা।
দশমিনা-গলাচিপা এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ আসন। এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ইতিমধ্যেই ভোটারদের হৃদয়ে ও মাঠের তৃণমূল সংগঠনের নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। অন্যদিকে এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বিএনপি জোটের প্রার্থী।জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন কর্মীবান্ধব নেতা হাসান মামুন শুধু দলের দায়িত্বশীল নেতাই নন, তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশ্বস্ত হিসেবেও পরিচিত। রাজনীতির মাঠে তার উত্থান ছাত্রদল থেকে শুরু। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি। তরুণ বয়সেই সংগঠনচর্চা, নেতৃত্বগুণ, এবং কৌশলী সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে দলে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন।
দশমিনা- গলাচিপায় বিএনপির প্রতিটি ইউনিটে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এককথায় বলা যায়, হাসান মামুনের নেতৃত্বে এই দুই উপজেলায় রয়েছে বিএনপির সুশৃঙ্খল শক্ত অবস্থান। কর্মীবান্ধব আচরণ, সহজ যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিনয়ী নেতৃত্বের ফলে পটুয়াখালী -৩ আসনে তিনি এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তার মেধা ও শুদ্ধ রাজনৈতিক চর্চা তাকে এই অঞ্চলের জনগণ ও বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে একজন ভরসার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাছাড়া তিনি রাজনীতির পাশাপাশি নানা সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। এসব কারণেই তিনি ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছেন।
হাসান মামুন তরুণদের স্বপ্ন দেখান, প্রবীণদের কাছ থেকে নীতিনৈতিকতার শিক্ষা নেন এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে কর্মীদের সম্মান দিয়ে পাশে রাখেন। এবং সবার সাথে সহজভাবে কথা বলেন, সবসময় সবাইকে বোঝার চেষ্টা করেন। এ কারণে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবার কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
তাছাড়া, ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সরব ও সম্মুখসারির নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হাসান মামুন। বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা, স্বৈরাচারী হাসিনা পতন আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও তিনি তার এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন, এবং এলাকার নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন অভিভাবকের মতো। আন্দোলনের মাধ্যমে তৃণমূলকে সংগঠিত করেছেন এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। তার সাহসিকতা, নেতৃত্বদক্ষতা এবং সাংগঠনিক নৈপুণ্য তাকে পটুয়াখালী-৩ এর বিএনপির অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দলের নেতাকর্মীদের আপদে-বিপদে, মামলা-হামলার সময় হাসান মামুন পাশে দাঁড়ান। বিএনপি থেকে হাসান মামুন দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণ ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। এটি হবে পটুয়াখালী-৩ আসনে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি হাসান মামুনকে বহিষ্কার করেছেন। তবে হাসান মামুন জানান, বহিষ্কারের দু’দিন আগেই গত ২৮ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর পদত্যাগ জমা দিয়েছেন তিনি।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে হাসান মামুনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসনটিতে নুরুল হক নুরের সঙ্গে সমঝোতা করায় নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবির মুখে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন হাসান মামুন।
এ বিষয়ে হাসান মামুন জানান, বিএনপির সিদ্ধান্ত পূর্ব নির্ধারিত, আমি গত ২৮ ডিসেম্বর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। নেতাকর্মীদেরকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।
