ইরানে বিক্ষোভে ২ হাজার মানুষ নিহত: রয়টার্স

শেয়ার করুন

ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশব্যাপী অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পর এই প্রথম কর্তৃপক্ষ এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলো বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং এর প্রেক্ষিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাস্তা নামেন তেহরানের ব্যবসায়ীরা। এরপর তা তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা।

ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চলমান অস্থিরতা উস্কে দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে এবং সেই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে। ফলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যাপক হতাহতের তথ্যও সামনে আসছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকালে ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মী—উভয় পক্ষের মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তা নির্দিষ্ট করে জানাননি ওই কর্মকর্তা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) নিহতের সংখ্যা ৬৪৬ বলে জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫০৫ জন বিক্ষোভকারী এবং নয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮৭টি শহরের ৬০৬টি স্থানে বিক্ষোভ রেকর্ড করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভ থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইরান সরকার চলমান বিক্ষোভে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

এদিকে কজাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস বলেছে, ইরানের বিক্ষোভে ‘শত শত’ নিহত হয়েছে কিন্তু সঠিক সংখ্যা বলতে পারেনি। আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্কের এক বিবৃতি পড়ে শোনান মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভয়ঙ্কর সহিংসতার এই চক্র চলতে পারে না। ইরানের জনগণ এবং ন্যায্যতা, সাম্য এবং ন্যায়বিচারের জন্য তাদের দাবি অবশ্যই শোনা উচিত।’

হত্যাকাণ্ডের মাত্রা সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাইলে ইরানে জাতিসংঘের নিজস্ব সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে লরেন্স বলেন, তিনি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে পারবেন না। তবে তিনি জানান: ‘আমরা যে সংখ্যাটি শুনছি তা শত শত।’


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত