স্থগিত এজেন্সির নাম ওয়েবসাইটে কেন, প্রশ্ন করতেই চটে গেলেন বায়রা প্রশাসক
বিদেশ গমনেচ্ছুদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি। নবায়ন না করায় এটির লাইসেন্স স্থগিত করেছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) ওয়েবসাইটের সদস্য তালিকায় এখনও প্রতিষ্ঠানটির নাম দেখা যাচ্ছে। ব্যাখ্যা জানতে যোগাযোগ করা হলে সদুত্তর না দিয়ে বরং উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকতা শেখাতে আসেন বায়রা প্রশাসক।
২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর সময় সংবাদে প্রকাশ করা হয় দুই রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার খবর। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন বিজনেস লিমিটেড। বিএমইটি জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালের পর লাইসেন্স নবায়ন করেনি এবং ২০২০ সাল থেকে নেই বায়রার সদস্যপদ।
তবে থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। লাইসেন্স নবায়ন না করলেও প্রায় এক যুগ ধরে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা, গত বছরের শেষ দিকে উধাও হয় প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ ঠিকানা থেকেও।
এদিকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, চাষবাস করে এত কষ্ট করে টাকা দিয়েছি। এজেন্সিটি হাজার হাজার মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কারও ৪ লাখ, কারও পাঁচ লাখ, কেউ কেউ ৭ লাখ পর্যন্ত দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত কেউ পালালে বা বিদেশে গেলে দায় কে নেবে?
বায়রার ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হয়, পরে বিচ্ছিন্ন করা হয় সংযোগ। বিএমটির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রিক্রুটিং এজেন্সিটির লাইসেন্স বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। তবে ২০২০ সালের পর সদস্য তালিকা থেকে বাদ দেয়ার কথা বললেও বায়রার ওয়েবসাইটের ‘অল মেম্বারস লিস্টে’ এখনও রয়েছে এই এজেন্সিটির নাম।
বায়ারার সদস্যপদ না থাকার পরও ওয়েবসাইটে সংগঠনটির অল মেম্বারস লিস্টে বহাল রাখা হয়েছে ইস্টার্ন বিজনেস লিমিটেডের নাম। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
বায়ার সদস্যপদ না থাকার পরও ওয়েবসাইটে সংগঠনটির অল মেম্বারস লিস্টে কীভাবে তা বহাল রাখা হয়েছে তা জানতে চাইলে তথ্য দিয়ে কোনো সহযোগিতা না করে বরং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বায়রার প্রশাসক আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এই তথ্য যদি ওয়েবসাইটে থাকে তাহলে তো বায়রাকে জিজ্ঞেস করারও দরকার নেই; যে বায়রার ওয়েবসাইটে কেন আছে? কোনো কিছু না বুঝে শুধু একটা ‘চোং’ নিয়ে ঘুরে বেড়ালে হবে না। আমি ৯৬ সালে সাংবাদিকতা করেছি; তখন আপনার জন্ম হয়েছে কিনা জানি না। তখন আমি জাতীয় দৈনিকে লিখতাম।’
তবে বায়রা সচিব নজরুল ইসলাম জানান, দাফতরিক জটিলতার কারণে ওয়েবসাইট থেকে অভিযুক্ত এজেন্সির নাম এখনও সরানো যায়নি। সরকার যদি কোনো লাইসেন্স বাতিল করে, তা ছয় মাস পর্যন্ত ওয়েবসাইটে থাকবে। এই সময়ের মধ্যে যদি আপিল বা প্রতিকার না হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম সরানো হবে।
বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলোনায় কয়েকগুণ বেশি। প্রতারণা দূর করতে এজেন্সির মান যাচাই করে, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাজানোর তাগিদ অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত এজেন্সিগুলোর মান যাচাই করা। সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে পারে কার রেটিং কেমন, কার কাছে কাজের জন্য যাওয়া যাবে, অভিযোগ থাকলে কে দায়বদ্ধ। সরকারি কর্মকর্তা বা অনুমোদনদাতা দফতরও এ বিষয়ে জবাবদিহি করবে।
অভিবাসন নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরু জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ১৮৮টি লাইসেন্স বাতিল ও ১৯১টি এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
