তিন দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
পোস্টাল ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রতিবাদে ইসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রোববার সকাল ১০টার পর থেকে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের রাস্তায় সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হতে শুরু করেন।
রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণসহ প্রতিটি থানা থেকে নেতাকর্মীরা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসিরসহ কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জবরদস্তিমূলকভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং বিশেষ সেটআপের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দিচ্ছে কমিশন। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচনেও বড় ধরনের কারচুপির নীলনকশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনে তাদের কোনো কাজ না থাকলেও তারা সেখানে অবাধে বিচরণ করছে এবং প্রভাব বিস্তার করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আজ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসেছি। যদি এই জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ছাত্রদলের ৩ অভিযোগ হচ্ছে—
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
