দুর্নীতির লাগাম টানার অভিজ্ঞতা কেবল বিএনপিরই আছে: তারেক রহমান

শেয়ার করুন

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের জন্য যদি কাজ করতে হয় তাহলে একটি রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। কীভাবে দেশ পরিচালনা করতে হবে, কীভাবে কী কী কাজ করবে জনগণের জন্য; সেই পরিকল্পনাগুলো থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ৪টায় স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ মঞ্চে ওঠেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন,

আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন, একটি রাজনৈতিক দল যারা এখন পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। তাদের দাবি, বিএনপি নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন হলো, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে ওই দলটিরও তো দুইজন সদস্য মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপি যদি এতই খারাপ হতো, তবে তারা কেন তখন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? এজন্যই চলে আসেননি যে তারা ভালো করেই জানতেন খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন। তৎকালীন সরকারের সেই দুই মন্ত্রী জানতেন, বেগম জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সব পরিসংখ্যান বলে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী সরকারের সময় দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন দায়িত্ব নেন, তখন থেকে দেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হতে শুরু করে। যে দল আজ বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করছে, সরকারের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাদের দুই মন্ত্রীর বহাল থাকা প্রমাণ করে তারা নিজেরাই এখন মিথ্যা কথা বলছে।’

তারেক রহমান বলেন,

বিএনপি হচ্ছে সেরকম একটি দল, যাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী দিনে কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবে। কারণ এই দলটিরই অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হয়, কীভাবে জেলা থেকে গ্রাম পর্যন্ত রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হয়, শিক্ষার আলো কীভাবে সন্তানদের মাঝে পৌঁছে দিতে হয় এবং কীভাবে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির লাগাম টানার অভিজ্ঞতা কেবল বিএনপিরই রয়েছে।

নেতারা ও কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট দিয়ে শুধু চলে আসলেই হবে না; ভোটের ফলাফল কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে, যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।’ আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের পর আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে খাল খনন কর্মসূচিতে। সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন, সেদিন আমিও থাকব।’

বক্তব্যের মাঝপথে তারেক রহমান ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে উপস্থিত জনতাকে সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

এর আগে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় নেতারা ও কর্মীরা। এ সময় তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ এবং ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানানো হয়।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত