সরকারবিরোধী বিক্ষোভ: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপকে দায়ী করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় দেশগুলো উত্তেজনা বাড়াচ্ছে-এমন অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ দাবি করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ইউরোপীয় নেতারা ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে বিভাজন তৈরি করতে চাইছেন। তাদের প্ররোচনায় অনেকে এই আন্দোলনে অজান্তেই যুক্ত হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি সামাজিক বিক্ষোভ নয়। ইরানের অর্থনৈতিক মন্দা ও সংকটকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি শক্তিগুলো দেশে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে এবং দেশটিকে ‘ভাঙনের পথে’ ঠেলে দিতে চাচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প সামরিক বিকল্পগুলো বিবেচনা করছেন, যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এবং দুই সপ্তাহ ধরে চলা দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের কারণে আন্দোলন অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ দাবি করেছে, এই দমন-পীড়নে অন্তত ৬ হাজার ৫৬৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ হাজার ১৭০ জন বিক্ষোভকারী এবং ২১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্কের এক টেলিভিশন চ্যানেলে বলেছেন, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ১০০, যার মধ্যে ২ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
