পটুয়াখালী-৪ শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৪, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) নির্বাচনী এলাকায় শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, ১০ দলীয় জোট ও গণধিকার পরিষদের প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির অংশ গ্রহণ না থাকায় এবার আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী । পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটের সমীকরণে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জনা যায়, কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর সভায় ভোটার দুই লক্ষ চৌদ্দ হাজার ৪৮১জন। পুরুষ ভোটার-১০৮৮৩৬, মহিলা ভোটার-১০৫৬৪৫ জন এবং রাঙ্গাবালী উপজেলা ৫টি ইউনিয়নে ৯৪ হাজার ৮৬৪ জন ভোটার রয়েছেন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার-৪৭৬৬১, মহিলা ভোটার-৪৭২০৩ জন।
বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ-বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ আমি ধানের শীষে ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলে পায়রা বন্দর ও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার রাস্তাঘাটের দুর্ভোগসহ উপকূলীয় জনপদের মানুষকে আর অবহেলিত থাকতে দেবোনা।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে নয়, ইসলামী আদর্শ, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন করছি। মানুষ পরিবর্তন চায়, আমি সেই পরিবর্তনের প্রতিনিধি হতে চাই।’

জামায়াতে ইসলাম সমর্থিত ১০-দলীয় জোটের মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং একসময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিঁনি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক যোগাযোগ ও ভোটার ঐক্য গঠনে কাজ করছেন ।
এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য মো. রবিউল হাসান (ট্রাক) স্বতন্ত্র ধারার রাজনীতি ও সংস্কারের বার্তা দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি মূল লড়াইয়ে সরাসরি প্রভাব না ফেললেও ভোট বিভাজনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন।
স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, পটুয়াখালী-৪ আসনটিতে ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় এবং ১৯৮৮ সালের ৩ মে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মরহুম আবদুর রাজ্জাক খান এমপি হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ার-উল-ইসলাম নির্বাচিত হন। তখন থেকেই জাতীয় পার্টির কাছ থেকে আসনটি হাত ছাড়া হয়ে যায়। শুধু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলবিহীন বিতর্কিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে খালি মাঠে গোল দেওয়ার মতো বিএনপির মোস্তফিজুর রহমান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগের আনোয়ার-উল-ইসলাম নির্বাচিত হয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মাহবুবুর রহমান জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মাহবুবুর রহমান এমপি নির্বাচিত হলে তাকে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতায় মাহবুবুর রহমান তৃতীয়বার এমপি হন।

একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন নেতা চান, যিনি দলবাজি বা চাঁদাবাজি নয়, বরং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন।
