নির্বাচনী জের: আমতলীতে দুর্বৃত্ত্বদের দেয়া আগুনে পুড়েছে চার দোকান

শেয়ার করুন

আমতলী উপজেলার সোনাখালী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং হলদিয়া ইউনিয়নের জুলেখার স্লইজ সংলগ্ন এলাকার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্ত্বদের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থরা। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী ক্ষতিগ্রস্থদের। ক্ষতিগ্রস্থ রাশিদুল আকনের অভিযোগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীকে ভোট দেয়ায় বিএনপির নেতা নাশির উদ্দিন,সাহাবুদ্দিন ও তাদের নেতাকর্মীরা তাকেসহ কয়েকজনকে মারধর করে দোকান বন্ধ করে দেয়। তারই জের ধরে তারা দোকানে পেট্রোল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় রাশিদুল আকন মুদিমনোহরী, আল আমিন ফার্মেসী ও স্বপন দাশ সেলুনের ব্যবসা করে আসছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্ত্বরা ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল দিয়ে আগুন দেয়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা চেষ্টা করে ও ব্যর্থ হয়। ওই তিনটি দোকান পুড়ে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপর দিকে একই রাতে হলদিয়া ইউনিয়নের জুলেখার স্লুইজ সংলগ্ন স্থানে লতিফ হাওলাদারের মুদীমনোহরী ও কীট নাশক ওষুধের দোকানে দুবর্ৃৃত্ত্বরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ওই ঘরে কোন বিদ্যুতের সংযোগ ছিল না। এতে তার অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্ত্বরা পেট্রোল দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার দোকান মালিক রাশিদুল আকন বলেন, দুর্বৃত্ত্বরা পেট্রোল দিয়ে দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি ও আল আমিনসহ বেশ কয়েকজনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেই। একে ক্ষিপ্ত হয়ে আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৬নংওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাশির উদ্দিন ও তার সহযোগী সাহাবুদ্দিন, নিজাম আকন ও নেওয়াজ আমাদের মারধর করে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। তারই জের ধরেই আবার তারা দোকানে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ নাশির উদ্দিন ঘটনার সঙ্গে জড়িতের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। কে বা কারা দোকানে আগুন দিয়েছে তা আমি জানিনা। তিনি আরো বলেন, রাশিদুল আকন ও আল আমিনের সঙ্গে গত ১২ ফেব্রুয়ারী একটা ঘটনা ঘটেছিল তা ছিল পারিবারিক, এখানে রাজনৈতিক কোন বিষয় ছিল না।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউস ইন্সেপেক্টর মোঃ হানিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই আগুন স্থানীয়রা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তার চিহ্নিত করা যায়নি।

আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত