তালতলীতে কাবিখা প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
বরগুনার তালতলী উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য (চাল) উত্তোলন করে তা বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে। আরো অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলে মিলে রাস্তা নির্মাণ কাজে এমন অনিয়ম করছেন। বিএনপি সরকারের সুনাম নষ্ট করতেই প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খাঁন পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন টিপু মৃধাকে দিয়ে নয়-ছয় করে কাজ করাচ্ছেন।
জানাগেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার ফুট রাস্তা নির্মাণে সোয়া সাত মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চান্দখালী গ্রামের কড়ইতলা ভারানি খালের মোহনার স্লুইসগেট থেকে মোতাহার মৃধার কালভার্ট পর্যন্ত ৩ হাজার ফুট মাটির রাস্তা পূর্ণনির্মাণের ইউপি সদস্য মোঃ ইব্রাহিম খানকে প্রকল্প সভাপতি করা হয়। পরিপত্রে উল্লেখ আছে শ্রমিক দিয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ করতে হবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁন তার ভগ্নিপতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন টিপু মৃধার যোগসাজশে শ্রমিক নিয়োগ না দিয়ে ভেকু দিয়ে দ্রুত কাজ করছেণ। এতে এলাকার দরিদ্র শ্রমিকরা প্রাপ্ত কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দরিদ্র শ্রমিকদের কাজের সুযোগ দিতে দ্রুত প্রশাসনের কাছে দাবী করেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান তালুকদার, দুলাল তালুকদার, খলিল আকন, মাসুম শরীফ ও আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন,’আমাদের এলাকার ভালো রাস্তা কেটে নিচ থেকে মাটি তুলে উপরে দেওয়া হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগও নষ্ট করা হয়েছে।’ তারা আরও বলেন, প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩.৩২৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে প্রকল্প সভাপতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে সেই টাকায় ভেকু মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে কাজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন টিপু মৃধা বলেন, ‘ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খাঁনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমি কাজ করছি।’
প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি প্রথম কিস্তির চাল উত্তোলন করে বিক্রি করেছি এবং সেই টাকায় ভেকু দিয়ে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে কমিশন দিয়ে ভেকুর মাধ্যমে কাজ করে আসছি। নতুন কোনো নিয়ম হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন মুন্সী বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি ভেকু দিয়ে কাজ করা হয়ে থাকে, তাহলে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।’
তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুম তার সঙ্গে প্রকল্প সভাপতির যোগসাজশ ও কমিশন নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘কাবিখা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
