উত্তরায় পাগলা কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে, আতঙ্কে জনজীবন স্থবির
রাজধানীর বৃহত্তর উত্তরা বিভাগের সাতটি থানা এলাকায় বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। কুকুর আতঙ্কে সংসদীয় ঢাকা -১৮ আসনের গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসরত সর্বস্তরের মানুষের জনজীবন স্থবির হয়ে উঠেছে। ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের অস্বাভাবিক বংশবৃদ্ধিতে বর্তমানে এক চরম জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাফেরা এখন রীতিমতো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তরা বিভাগের সাতটি থানা উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এবং টানপাড়া এলাকায় দিন দিন এই সমস্যা চরম আকারে পৌঁছেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়, কোন সরকারি – বেসরকারি এনজিও সংস্থা কিংবা বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে পাগলা কুকুর নিধনের কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে না। যার কারণে ঢাকা -১৮ আসনের বাসিন্দা, পথচারী এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর ভুক্তভোগী, এলাকাবাসি ও বিশ্বস্ত নির্ভরযোগ্য সংশ্লিষ্ট তথ্য সূত্রের।
তথ্য অনুসন্ধান, ভুক্তভোগী, এলাকাবাসিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, রাজধানীর উত্তরা পূর্ব, উত্তরা পশ্চিম, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত থানা এলাকা নিয়ে
সংসদীয় ঢাকা -১৮ আসনটি গঠিত। এ অঞ্চলকে উত্তর বঙ্গের প্রবেশদ্বার ও বলা হয়। এই এলাকাগুলো এক সময় সাবেক হরিরামপুর, দক্ষিণখান ও উত্তরখান ইউনিয়নের আওতাধীন ছিল। বর্তমানে এটিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিততব্য এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা -১৮ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৬ লাখ। আর বসবাসরত ও বহিরাগত জনসংখ্যা হবে প্রায় ১০/১২ লাখের অধিক। বিশেষ করে সন্ধ্যা পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দলবদ্ধ কুকুরের অবাধ বিচরণ পুরো এলাকায় এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। বাসস্ট্যান্ড, নামি-দামি মার্কেট, বিপনি বিতান, খাবার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, গোলচক্কর, আব্দুল্লাহপুর আইচি হাসপাতালের নৌকাঘাট, মাছ বাজার, আজমপুর, রাজলক্ষ্মী মার্কেট, আমির কমপ্লেক্স, রাজউক, ১১ নম্বর সেক্টর কাঁচাবাজার, আজমপুর কাঁচাবাজার, মধ্য আজমপুর, স্ল্যুইচগেইট কাঁচাবাজার, উত্তরখান মাজার, মৌনারটেক, হেলাল মার্কেট, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ, কাওলা, চেয়ারম্যান বাড়ি, আশকোনা, গাওয়াইর, তুরাগের চণ্ডাল ভোগ মধ্য ও পূর্ব পাড়া, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস আশপাশ, উত্তরা কার হাঁট, খালপাড়, নলভোগ, নলভোগ বাজার, রুপায়ন সিটি, প্রিয়াংকা সিটি, খালপাড় বড় মসজিদ- গণকবরস্থান, ময়লার ড্রাস্টবিন, ডিয়াবাড়ি কালা মিয়া মার্কেট, পুকুরপাড়, বিআরটিএ, মেট্রোরেল গোলচক্কর ও প্রকল্প এলাকা, রানাভোলা, কামারপাড়া, নয়ানগর, রাজাবাড়ি, ধউর ও উত্তরা মডেল টাউনের ০১ থেকে শুরু করে ১৫ নং সেক্টর এলাকাসহ ঢাকা -১৮ আসনের সর্বত্র এলাকাজুড়ে কুকুরের উপদ্রব দিনদিন বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে কুকুরের বংশ বিস্তার ও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
এদিকে খিলক্ষেত থানা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ আলী ওরফে আলী এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, খিলক্ষেত বাজার, নামাপাড়া, টানপাড়া, স্কুল রোড, নিকুঞ্জের প্রধান সড়কগুলো থেকে শুরু করে টানপাড়ার জামতলা জাহিদ ইকবাল চত্বর, বালুর মাঠ আইজ্জার বস্তি, পশ্চিমপাড়া, সরকার বাড়ি এবং পুরাতন বাজার এলাকা বর্তমানে কুকুরের উপদ্রব বহুগুণ বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকলেও সূর্য ডুবার সাথে সাথে সম্পূর্ণ চিত্র পাল্টে যায়। এসব এলাকার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ০৮ থেকে ১০টি কুকুরের দল অবস্থান নেয়, অনেক সময় পথচারীদের একা পেলে চারদিক থেকে এসে ঘিরে ধরে এবং ঘেউঘেউ করে পায়ের কাছে চলে আসে। কুকুরের গায়ে আঘাত করতে গেলে তেড়ে আসে এবং কামড় দেয়ার চেষ্টা করে। মাঝে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কোমলমতি শিশু, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা। এমতাবস্থায় অভিভাবকরা সন্তানদের একা বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন
