কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট দাখিল
কিশোরগঞ্জে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মো. সেতাফুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মো. সেতাফুল ইসলামসহ চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন-কিশোরগঞ্জ জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের তৎকালীন অডিটর মো. সৈয়দুজ্জামান, বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, কে এ আল মামুন, মো. কামরুজ্জামান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. আনিছুর রহমান, মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন শিমুল, জিলন খান ও আব্দুল হামিদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ সালে ভৈরবের বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্প, ২০১৪-১৫ সালে বাজিতপুর উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, ২০১৪-১৫ সালে অষ্টগ্রামের চৌদন্ত সড়ক প্রকল্প এবং ২০১৪-১৫ সালে উজানচর-বাজিতপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য বাবদ চারটি এলএ কেসের বিপরীতে সরকারি তহবিলে ৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬ টাকার গরমিল পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা সরাসরি আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে দুদক। ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সরকারি অর্থ গরমিল ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। তদন্তকালে ৪৭টি মূল এলএ চেকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের লেনদেনের নথিপত্র জব্দ করা হয়। তদন্তে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুয়া অ্যাডভাইস তৈরি এবং রেকর্ডপত্রে জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।
এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদক কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী জানান, কিশোরগঞ্জের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) মো. সেতাফুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
