যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক আলোচনা ব্যর্থ

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান ছেড়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
শেয়ার করুন

৪০ দিনের সংঘাতের পর যুদ্ধে জয়ের দাবি নিয়ে শান্তি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শুরু থেকেই আশঙ্কা ছিল, এমন পরিস্থিতিতে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে—শেষ পর্যন্ত তা প্রায় অসম্ভবই হয়ে ওঠে। আলোচনার ব্যর্থতার জন্য একে অপরকেই দোষারোপ করেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন।

এখন মূল প্রশ্নটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত বুধবার (৭ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান চুক্তি না করলে একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। এখন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় নতুন করে ইরানে হামলা শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। যদিও সেই আশঙ্কা বেড়েছে।

আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ার দুই পক্ষের অন্যতম একটি বিরোধ ইস্যু হলো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই পথ অবরোধ করে রাখে। ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বেড়ে যায়।

আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন বিকল্প পথ খুঁজছে।

তিনি বলেন, তার দল ইরানকে দিয়ে এটা নিশ্চিত করাতে পারেনি যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বা তা দ্রুত অর্জনের সরঞ্জাম তৈরি করবে না।
তিনি এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি মূল লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করেন এবং হতাশা প্রকাশ করেন।

দুইপক্ষের মতবিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে তেহরান।

ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান এটা নিশ্চিত করতে পারেনি যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বা তা দ্রুত অর্জনের সরঞ্জাম তৈরি করবে না। তিনি এ বিষয়টিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করেন এবং হতাশা প্রকাশ করেন। যদিও ইরান বরাবরই বলে আসছে যে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক-তবে শেষ পর্যন্ত এটি কূটনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: বিবিসি


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত