বরিশালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাৎ: মামলার প্রধান আসামি টিটুল গ্রেপ্তার
নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং ব্যবসার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি টিটুল হাওলাদারকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) কোতোয়ালি মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত টিটুল হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া বন্দর এলাকার মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে এবং স্থানীয় ‘মাহিয়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর স্বত্বাধিকারী।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (৪০) উজিরপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত থাকাকালীন প্রতিবেশী ব্যবসায়ী টিটুলের সাথে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টিটুল ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। এছাড়াও ব্যবসার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
সবশেষ গত ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ সকালে টিটুল ওই নারীকে জরুরি কথা বলার অজুহাতে বরিশাল নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা সংলগ্ন ‘হোটেল প্রেসিডেন্ট এর ৩০১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে পুনরায় ধর্ষণ করেন এবং পরে কোনো কিছু না বলে সেখান থেকে সটকে পড়েন।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দুই পরিবারের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ হয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
সুস্থ হওয়ার পর ওই নারী বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় টিটুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ২৬)।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান,ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সকল আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এদিকে আসামির গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
