গ্রেপ্তার থাকা সাংবাদিকদের কারো কারো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় আছে: জাহেদ উর রহমান

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই সংক্রান্ত ঘটনায় বর্তমানে গ্রেপ্তার থাকা কোনো কোনো সাংবাদিক হত্যা মামলার চেয়েও বড় অর্থাৎ মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী। তবে বন্দি থাকা কোনো সাংবাদিকের নাম তিনি উল্লেখ করেননি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড জানাতে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।

তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, যারা (সাংবাদিকরা) বন্দি আছেন, তারা গণহত্যার মামলায় বন্দি নেই। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি হত্যা মামলায় বন্দি আছেন। তবে আমি মনে করি, উনাদের গণহত্যার দায় খানিকটা দেওয়া যায়। আসলে কথাটা গণহত্যাও নয়, মানবতাবিরোধী হত্যার দায়। জুলাইয়ে কোনো গণহত্যা হয়নি, কিন্তু মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড হয়েছে, যা শেখ হাসিনা অনেক আগে থেকে করে এসেছেন।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম আগে থেকে হয়েছে, এটি সিস্টেম্যাটিক অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, আর জুলাইয়ে তো (হত্যাকাণ্ড) হয়েছেই।’ ‘যাদের যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের (হত্যা) মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের কারো কারো অপরাধ হত্যা মামলার চেয়েও বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ভার তাদের আছে কি না?’—উল্লেখ করে এটি তার ব্যক্তিগত অবস্থান বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

উপদেষ্টা জাহেদ এ সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ দিয়ে বলেন, নুরেমবার্গ ট্রায়াল বা টোকিও ট্রায়াল যখন হচ্ছিল, তখন সেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটনের ক্ষেত্রে যারা কোনো না কোনো ফর্মে ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হয়েছিল। এ কারণে আমি তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে আসার আগে বা গত সংসদ নির্বাচনের আগে আমিই বলেছি, ‘তাদের যে মামলাগুলোতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটা ভুল।’

এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, একই ধরনের মামলায় (সাংবাদিকদের) যারা এখনো গ্রেপ্তার হননি, তাদের বিষয়েও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

বিষয়টি নোয়াবের নেতারা সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় তুলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি এ সময় আরও বলেন, এটি বিচারিক প্রক্রিয়া, এখানে সরকার চাইলেই কোনো কিছু করে ফেলতে পারে না। বিচার বিভাগের সঙ্গে কোলাবোরেট করে সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব, সরকার নিশ্চয়ই করবে।

হামের টিকার গাফিলতি নিয়ে তদন্তের চেষ্টা হচ্ছে

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, হামের টিকা নিয়ে সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে গাফিলতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তদন্তের উদ্দেশ্য হচ্ছে যাচাই করা এবং তারপর সিদ্ধান্তে আসা। দ্রুত যাতে তদন্ত শুরু হয়, সে চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলছি। আমি আশা করি, সরকার একটা তদন্ত করবে। দায়ী কারা ছিলেন বা অন্তত কাউকে ধরে শাস্তি দিতে চেয়েছি, সেটার চেয়েও জরুরি কথা, সমস্যাগুলো কোথায় হলো।

জাহেদ উর রহমান বলেন, একটা তদন্ত ভবিষ্যতের জন্য হেল্প (সহযোগিতা) করে, যাতে একই রকম ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়। সেই কারণে অন্তত তদন্ত হওয়া উচিত বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এবং চেষ্টাও করছি। আমি এ ব্যাপারে কথা বলব। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলব।

উপজেলা পরিষদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু হবে। এজন্য কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। সেটাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আগে জানানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ বাতিল করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার নেয়নি। সংসদ সদস্যদের বসার জন্য উপজেলা পরিষদে কক্ষ করার সিদ্ধান্তে পরিষদের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে—ব্যাপারটি তেমন নয় বলে মনে করেন জাহেদ উর রহমান।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত