৭ নভেম্বর ও জাতীয় সংহতি দিবসের প্রশ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রাসঙ্গিকতা

শেয়ার করুন

কখনো কি ভেবে দেখেছেন? —কেন একটি দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথাতেই ৭ নভেম্বর ও জাতীয় সংহতি দিবসের প্রক্ষাপটে রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ?

লাখ লাখ মানুষের রক্ত আর মা-বোনদের চরম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত যে স্বাধীনতা, তার ভয়াবহ স্মৃতি ঝাপসা হতে না হতেই কেন এই নবজাতক বাংলাদেশকে গভীর সংকটে পড়তে হলো?

প্রশ্নটি শুধু আমাদের নয়, ভাবায় বর্তমান প্রজন্মকেও।

উত্তরগুলো জানতে প্রজন্মকে ফিরে জেতে হবে ‘সেইসময়’।

কেন একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ হঠাৎ অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী কাঠামোর দিকে হাঁটতে শুরু করল?

কেনই বা সরকার প্রধানকে সপরিবারে জীবন দিতে হলো?

এর পেছনে কি এক গভীর প্রেক্ষাপট?

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ—তীব্র খাদ্যসংকট, দুর্ভিক্ষ, চরম দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত।
আর এই অস্থিতিশীলতার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে জাতি মুখমুখি হলো ১৯৭৫ সালের।

কারন হিসেবে চিহ্নিত একদলীয় শাসনব্যবস্থা,যার নাম দেয়া হলো “বাকশাল”

বন্ধ করে দেওয়া হলো অধিকাংশ সংবাদপত্র, ভেঙে পরেছিলো সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড, তৈরী হয়েছিলো বিতর্কিত “রক্ষিবাহিনী”।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দূরদর্শিতার অভাবে, জনমনে তৈরি হলো চরম হতাশা। আর এই সুযোগেই রাষ্ট্রব্যবস্থার অভ্যন্তরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল একটি বিপদগামী ও উচ্চাভিলাষী চক্র।

সেদিনের সেই বিপদগামী সেনা সদস্যরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘটাল এক বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হলো তৎকালিন রাস্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের জীবন।

খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে রাস্ট্র ক্ষমতা দখল করল একটি চক্র।

কিন্তু সেই ক্ষমতাও টেকসই হলো না। মাত্র ৮৩ দিন পর, ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল শাফাত জামিলের নেতৃত্বে এল পাল্টা অভ্যুত্থান। পতন ঘটল মোশতাক সরকারের। কারাগারে নির্মমভাবে নিহত হলেন জাতীয় চার নেতা এবং গৃহবন্দী হোলেন ততকালীন সেনা উপ-অধীনায়ক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।ক্ষমতার পটপরিবর্তনের কেন্দ্রীয় চরিত্র খালেদ মোশাররফও পাল্টা অদ্ভ্যত্থান মুখে নিহত হোলেন। দেশ আবার পড়ল এক দিশাহারা অবস্থায়।

ঠিক সেই মুহূর্তে, জাতি যখন এক অনিশ্চিত দিশাহারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সংকটের মুখে—ঠিক তখন কারামুক্ত হলেন রণাঙ্গনের বীর সৈনিক, স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের প্রণেতা—মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

প্রশ্ন হলো: কেন সেদিন সিপাহী-জনতা তাঁকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছিল?

একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের চরম পেশাদারিত্ব নৈতিকতা ৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে রাস্ট্রিয় ষড়যন্ত্রের অংশ হতে দেয়নি।

দেশে চলমান রাজনৈতিক গভীর সংকটে সিপাহী-জনতাই তাঁকে মুক্তির প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছিলো।

ক্ষমতা গ্রহণ করেই জেনারেল জিয়া ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ও দীর্ঘদিয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দূর করতে সামরিক শাসন জারি করেতে সেদিন বাধ্য হয়েছিলেন, জাতীয় সংহতি সুসংহত রাখতে খুব অল্পসময়ের মধ্যেই অবাদ গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করে দেশে সাধারণ নির্বাচন দিয়ে জনগণের গণতন্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিলেন ।

তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ আবার হাঁটা শুরু করে চেনা গণতন্ত্রের পথে, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, দেশর সকল গণমাধ্যম অবাদ করেদিয়ে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তিরও কারিগর।

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে তিনি নিলেন দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি নানা প্রকল্প।
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে বাঁচাতে ডাক দিলেন ‘সবুজ বিপ্লব’-এর,নীজ তত্ত্বাবধানে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে প্রচলন করলেন খালকাটা কর্মসূচি,
বিকল্প কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রও কুটির শিল্পের পাশাপাশি দক্ষজন শক্তি গঠনে অধীক গুরুত্ব দিলেন,নিলেন বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ।

আজকের প্রজন্মকে কেন এই ইতিহাস জানতে হবে?

কারণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ৭ নভেম্বরের চেতনাই শিখায় কীভাবে জাতীয় সংকট উত্তরণ করে একটি দেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত