আমতলীর বিএডিসি’র জরাজীর্ণ ভবনের মালামাল চুরি, ট্রাকসহ মালামাল জব্দ
অর্ধশত বছরের পুরাতন পরিত্যাক্ত জরাজীর্ণ আমতলী বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) দ্বিতল ভবনের মালামাল চুরির অপরাধে জুয়েল মৃধা নামের একজনকে পনের দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ ইফতি হাসান ইমরান তাকে এ দন্ড দেন।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের সামনে ১৯৭৫ সালে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ মেশিনারিক যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতি মজুদ রাখতে দুইটি দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করে। ওই ভবন দুটি ১৫ বছর আগেই উপজেলা প্রশাসন পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছেন। কিন্তু ভবন দুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পরে থাকলেও অপসারণ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ওই ভবনের মালামাল জুয়েল মৃধার নেতৃত্বে মোঃ বশির হোসেন, সজিব হাওলাদার ও বেল্লাল ভেঙ্গে চুরি করে একটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল।
খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটকের নির্দেশ দেন। কোর্ড পুলিশ তাদের আটক করে আদালতের হেফাজতের রাখেন এবং মালামাল আদালতের জিম্মায় রাখা হয়। পরে বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (সেচ) মোঃ ইয়াকুব আলী তাদের বিরুদ্ধে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দেন। আদালতের বিচারক মোঃ ইফতি হাসান ইমরান তাদের মধ্যে জুয়েল মৃধাকে পনের দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাকে বরগুনা জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
আমতলী উপজেলা বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, বিএডিসির ভবন সরকারী সম্পত্তি। সরকারী সম্পত্তি পরিত্যাক্ত ও জরাজীর্ণ হলেও কারো নেয়ার অধিকার নেই। এ বিষয়ে আদালতে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু বকর বলেন, বিএডিসি কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত জুয়েল মৃধাকে আদালতের বিচারক পনের দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। অপর তিনজন শ্রমিক হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়।
আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের জিআরও (সাধারণ নিবন্ধণ কর্মকর্তা) মোঃ জাহেদ বলেন, দন্ডপ্রাপ্ত জুয়েল মৃধাকে বরগুনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু ওই ভবনটি আদালতের সামনে তাই মালামাল আদাতের বিচারকের জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনিই ব্যবস্থা নিয়েছেন।
