তারেক রহমান ও বিএনপি নিয়ে প্রচলিত সাত বয়ান

শেয়ার করুন

দীর্ঘদিন বলা হয়েছে তারেক রহমান আসবেন না। বাস্তবতা হলো, তিনি ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশে এসেছেন। এই একটি ঘটনাই আগের সব দাবি অকার্যকর করে দিয়েছে। যারা নিশ্চিতভাবে বলেছিল আসা অসম্ভব, তারা বাস্তবতা ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।
আরেকটি কথা ছিল, তারেক আসতে চাইলেও আসতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তিনি এসেছেন। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একতরফাভাবে কারও হাতে ছিল না, বা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়নি। এতে বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের যে শক্ত চিত্র দেখানো হচ্ছিল, সেটি পুরোপুরি সত্য ছিল না।

তারেক রহমান সাত দিনের মুচলেকা দিয়ে আসছেন-এই বক্তব্যও প্রমাণহীন ছিল। দেশে ফেরার ঘটনায় এমন কোনো দৃশ্যমান শর্ত বা প্রকাশ্য আপস সামনে আসেনি। এই বয়ান মূলত তাকে দুর্বল দেখানোর চেষ্টা ছিল, যা ঘটনাপ্রবাহে টেকেনি।

নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না-এই বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হতাশা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা দেশে ফেরার পর এই বক্তব্য আর আগের মতো বিশ্বাসযোগ্য নেই। রাজনৈতিক মাঠ সক্রিয় হলে নির্বাচন পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সহজ থাকে না।

বলা হচ্ছিল বিএনপি ৮০টির বেশি আসন পাবে না। আগাম আসনসংখ্যা ঘোষণা নির্বাচন বিশ্লেষণ নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা। বাস্তবে আসন নির্ধারিত হয় ভোট, অংশগ্রহণ এবং পরিবেশের মাধ্যমে-ঘোষণায় নয় মনে হয় না।

আরেকটি প্রচলিত কথা, বিএনপিকে মানুষ চায় না। কিন্তু তারেক রহমানের আগমনের পর রাজনৈতিক আলোচনার তীব্রতা এবং জনসম্পৃক্ততা এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মানুষ না চাইলে একটি দলকে ঘিরে এত রাজনৈতিক নড়াচড়া তৈরি হয় না।

সবশেষে বলা হয়, বিএনপি ৭১ ও মুক্তিযুদ্ধের বয়ান দেয়, মানুষ তা গ্রহণ করে না। বাস্তবে মানুষ বয়ান নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা দেখে। কে কী বলছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কে কীভাবে রাজনীতি করছে এবং ক্ষমতায় গেলে কী করবে।

এই সাতটি বয়ানের কোনোটিই ২৫ ডিসেম্বরের পর আগের অবস্থায় নেই। বাস্তবতা অনেক কথাকেই মিথ্যা প্রমাণ করেছে। এখন রাজনীতিতে সিদ্ধান্ত হবে মাঠে, প্রচারণায় নয়।

মো: হাফিজ আল আসাদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত