ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপির তিন প্রার্থীর রংপুর ডিসি কার্যালয় ঘেরাও
রংপুর সদর, কাউনিয়া-পীরগাছা ও পীরগঞ্জ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছেন বিএনপির তিন প্রার্থী। রোববার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় ঘেরাও করে তিন প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা ফল পুনর্গণনার দাবি জানান। প্রায় তিন ঘণ্টা কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। ভোট পুনর্গণনা না করা হলে টানা আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ‘রাজাকার-আলবদর এ মুহূর্তে বাংলা ছাড়, এ দেশে রাজাকারদের ঠাঁই নাই, চোর চোর ভোট চোর, এনসিপি ভোট চোর,’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। ‘শহীদ জিয়া মরে নাই, আমরা আছি লাখো ভাই-তারেক জিয়া ভয় নাই, আমরা আছি জেগে সবাই’ স্লোগান দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসককে ভোট চোর উল্লেখ করেও তারা স্লোগান দেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলে। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে বিএনপির তিন প্রার্থী তার কার্যালয়ে যান।
রংপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে এমদাদুল হক ভরসা এবং রংপুর-৬ আসনে সাইফুল ইসলাম ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা অভিযোগ করেন- নিয়মতান্ত্রিকভাবে অভিযোগ দিতে ভোটের পরের দিন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আমরা দেখা করতে তার বাংলোয় গিয়েছিলাম। কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও তিনি দেখা করেননি। এমন পরিস্থিতিতে রোববার দুপুরে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। তারা বলেন, ষড়যন্ত্র করে জনগণের রায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি ভোট চুরি করে বিএনপি প্রার্থীদের পরাজিত করেছে।
জেলা প্রশাসককে এমদাদুল হক ভরসা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আপনার ওপরে আমরা আস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন কেন্দ্রে মব সৃষ্টি করে ফল কারচুপি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনি প্রশ্রয় দিয়েছেন। শুধু তাই নয়-আমরা অভিযোগ দিলেও আপনার ঈঙ্গিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা চাই-ভোট পুনর্গণনা করে জনগণ যার পক্ষে রায় দিয়েছে তা জানানো হোক। তিনি বলেন, তার ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে। কি কারণে বাতিল করা হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
রংপুর-৩ আসনের সামসুজ্জামান সামু এবং রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের প্রার্থীরা পরিকল্পিতভাবে নিজেদের লোকজনকে পোলিং অফিসার, পুলিশ, আনসার সদস্য হিসাবে নিয়োগ করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বিশেষ দলের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য ভোট গণনার সময় কারচুপি ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। ভোট পুনর্গণনার দাবি না মানা পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও জেলা প্রশাসককে জানান।
রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, ভোট পুনর্গণনার জন্য তিনজন প্রার্থী লিখিত আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনগুলো নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করব। তিনি আরও বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও খুবই ভালো ছিল। আমরা মনে করি নির্বাচনি কার্যক্রম শতভাগ সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
