ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল
ঈদের এক টানা ৭ দিনের ছুটিতে ঈদের ২য় দিন থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল নামে। ঈদের দিন সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির পর আজ রবিবার চমৎকার আবহাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমনে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত মুখরিত হয়ে ওঠে।
শনিবার শেষ বিকেল থেকে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীর সংখ্যা, যা আজ রবিবারে দুপুর নাগাদ ব্যাপক সমাগমে রূপ নেয়। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায়, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন, কেউবা সমুদ্রের নোনা জলে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে বেঞ্চে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। শিশুরা বালুচরে খেলায় মেতেছে। কেউ মোবাইলের সেলফি নিয়ে ব্যস্ত।
দীর্ঘ একমাস পর্যটক কম থাকায় সৈকতে বেড়েছে লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির বিচরণ। ফলে সমুদ্রের পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করছেন আগত দর্শনার্থীরা।
ছাতা বেঞ্চি ব্যবসায়ী মো. আমিনুল বলেন, দীর্ঘ একমাস রমজানের কারনে সৈকত ছিল পর্যটক শুন্য। আজ পর্যটকের আগমনে সকল ব্যসায়ীর মুখে হাসি ফুটেছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হিল্লোল বলেন, ঈদের ছুটি কাটাতে প্রিয়জনের সাথে কুয়াকাটায় এসেছি। বেশ লাগছে।
সিলেট থেকে আসা পর্যটক নিপা বলেন, সমুদ্রের ঢেউ আর সৈকতে খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি, সব মিলিয়ে সময়টা বেশ উপভোগ করছি।
কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল সাউথ স্টার এর ম্যানেজার মিঠু বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটক আসায় ব্যবসায় গতি ফিরেছে। ঈদের একটানা ছুটিতে হোটেলের বুকিং প্রায় পূর্ণ।
হোটেল মোটেল অউনার এসোসিয়েশন সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ জানান, ঈদের ছুটিকে পর্যটকে মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। প্রায় হোটেলের রুম বুকিং রয়েছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক জয়ন্ত মন্ডল বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, কুয়াকাটায় আজ প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। পর্যটকের নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন, মহিপুর থানা পুলিশ,কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ ও পৌর প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
