সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম ও চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি রাকিব গ্রেফতার

শেয়ার করুন

ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আইনুদ্দিন খলিফাকে (৮০) কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম ও পরবর্তীতে পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির মামলার প্রধান আসামি মো. রাকিব হাওলাদারকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ঝালকাঠি আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ২নং মগড় ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের কাজী বাড়ি জামে মসজিদে এশার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান আইনুদ্দিন খলিফা। পথিমধ্যে রায়পুর গ্রামের পাকা রাস্তার ওপর ওৎ পেতে থাকা ১নং আসামি মো. রাকিব হাওলাদার পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো দা দিয়ে প্রবীণ এই নেতার মাথার পেছনে সজোরে কোপ দেয়।

হামলায় রক্তাক্ত জখম হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘাতকরা তার পকেটে থাকা নগদ ২,২০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর স্বজন মো. মাইনুল ইসলাম (মিলন খলিফা) অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনার পর থেকেই আসামিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মামলার ১নং আসামি রাকিব ও তার নামধারী ২ সহযোগীসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন সন্ত্রাসী বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে কল করে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা পরিবারের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একই পরিণতি হবে বলে তারা চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে আসছিল।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নলছিটি থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-২০) রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) হেমায়েত উদ্দিন জানান:গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি রাকিবকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত এবং এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, একজন প্রবীণ জনপ্রতিনিধির ওপর এমন বর্বর হামলা ও পরবর্তীতে পরিবারের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত