আমতলীতে জমি নিয়ে বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ২০
জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার ছোটনীলগঞ্জ রোববার বেলা সাড়ে সারে ১১ টায়।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার ছোট নীলগঞ্জ এলাকার আবুল হোসেন গাজী ও রুস্তম হাওলাদারের মধ্যে তিন একর জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে রুস্তম হাওলাদার ভারাটে সন্তাসী এনে ওই জমি চাষাবাদ করতে আসে। এ সময় আবুল হোসেন গাজীর লোকজন বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুস্তম হাওলাদারের ভারাটে সন্ত্রাসী আব্দুর রব গাজী, ফয়সাল গাজী ও হানিফ সিকদারের নেতৃত্বে আবুল হোসেন গাজীর লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দফায় দফায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত আবুল হোসেন গাজী (৫০), খোকন (৩৫), মহসীন গাজী (২৮), জলিল গাজী (৪৪), জাহিদুল (৩৫), আখিনুর (৩০), সোনিয়া (৩৫), সোহেল মোল্লা (৪০), ফয়সাল (২৫), মাহবুবুর রহমান (৩২), ইমরান (২৪), সাইদুল গাজী (৪০), আমিনুল ইসলাম (১৬), দুলাল মুসুল্লী, (৫৫), লুৎফর(৫৫), রুস্তম হাওলাদার (৭৫), পাশা হাওলাদারকে (৪৫) আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে খোকন, সোহেল মোল্লা, জলিল গাজী, আখিনুর, রুস্তম হাওলাদার ও মাহবুবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
আহত আবুল হেসেন গাজী বলেন, আমার পৈত্রিক জমি রুস্তম হাওলাদার জোরপুর্বক ভারাটে সন্ত্রাসী এনে চাষাবাদ করতেছিল। এতে বাঁধা দিলে আমার পক্ষের ১৩ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। তিনি আরো বলেন, এই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রুস্তম হাওলাদার ভারাটে সন্ত্রাসী এনে জমি চাষাবাদ করতে আসে। আমি এ ঘটনাী বিচার চাই।
রুস্তম হাওলাদারের ছেলে পাশা হাওলাদার বলেন, জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজী ও তার লোকজন বাধাঁ দেয়। এতে আমার পক্ষের সাতজন আহত হয়েছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, আহতদের ষথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
