অবসর চান মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদে ‘পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত

শেয়ার করুন

চলতি বছরেই কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পরিবর্তন আসছে মহাসচিব পদে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় কাউন্সিলের পর রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল জানান, দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরেই বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব।

দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে নতুন করে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচন শেষে বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে এবং দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

কাউন্সিলে নতুন মুখ আসবে মহাসচিব পদে। মির্জা ফখরুল জানান, রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ ধরনের প্রত্যাশা আমার কখনই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমার কাজটা ছিল, কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষা এখানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি না।’

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।

এর আগে, ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুলকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত