পটুয়াখালীতে এআই ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন

এআই ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষনের পরীক্ষায় ২৫টি আসনের বিপরীতে অংশ নিলেন ২৫২ পরীক্ষার্থী, চূড়ান্ত ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি এবং তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে এআইভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, এআই শেখার আগ্রহ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান গড়ে তোলার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার লিখিত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাত্র ২৫টি প্রশিক্ষণ আসনের বিপরীতে প্রায় ২৫২ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এতে আধুনিক এআই প্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিংভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে পটুয়াখালীর তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য দুই মাসব্যাপী মোট ৫০টি ক্লাসে ৩০০ ঘণ্টার নিবিড় ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়; বাস্তব কাজের মাধ্যমে এআই টুল ব্যবহারের দক্ষতা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর আয়ের সুযোগ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ঢাকার পরিচালক (অর্থ) ও যুগ্ম সচিব মানিকহার রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি ও পটুয়াখালী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আবুল কালাম, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তামিম নূর ইসলাম এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের পটুয়াখালী জেলা শাখার প্রতিনিধিগণ। পরিদর্শনকালে তাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণের বেসিক এআই কোর্সে চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফট কোপাইলট, ডিপসিক, গুগল জেমিনি, গ্রামারলি, কুইলবট, জ্যাসপার, ক্যানভা, পিক্সলার, ইনভিডিও ও ইলেভেনল্যাবসসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুলের ব্যবহার শেখানো হবে।

অন্যদিকে, অ্যাডভান্সড এআই কোর্সে রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, মিডজার্নি, ট্যাবলো, জ্যাপিয়ার, ডিসক্রিপ্ট, ক্লিকআপ, নোশন এআই, ডরিক এআই, আহরেফস, সেলসফোর্স, হাবস্পট, কপিডটএআই, অ্যাডোবি সেনসেই, ড্যাল-ই এবং ভিও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে শুধু বিভিন্ন এআই টুল পরিচালনার কৌশলই নয়; এআইভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও নির্মাণ, ডেটা বিশ্লেষণ, কর্মপ্রক্রিয়া অটোমেশন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত সম্ভাবনাময় ও কর্মসংস্থানমুখী একটি খাতে পরিণত হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের তরুণ-তরুণীরা দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গঠন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পটুয়াখালীর তরুণ সমাজ আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের আরও দক্ষভাবে সম্পৃক্ত করতে পারবে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে স্মার্ট, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মসংস্থানমুখী বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে।

আলোর ঠিকানা/ এআর/পি।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত