‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা ভেঙে দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সেখানে ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার অপচেষ্টা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে একাধিক দাগী আসামিকে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে পুলিশ সদরদপ্তরের ‘ন্যাশনাল অপারেশন মনিটরিং সেন্টার’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ওই এলাকায় (সলিমপুর) পুলিশ ও র‍্যাব একাডেমি, পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং কারাগারসহ একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক হাব নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।

গত রোববার গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে ব্যাপক হামলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্প (চৌকি) লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভাঙচুর করে। এর আগে অন্তত চার জায়গায় এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাতে না পারে।

র‍্যাব জানিয়েছে, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সোমবার ভোর ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে সাঁড়াশি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসী ‘ইয়াছিন বাহিনী’র সদস্যরা জড়িত।

সোমবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সমকালকে বলেছিলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য ছিল। এটা হাতছাড়া হওয়ায় সন্ত্রাসীরা একটু ঝাঁকুনি দেবে, নড়াচড়া করবে এটা স্বাভাবিক। পুলিশের এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া পিছু হটার সুযোগ নেই। ইয়াছিন বা রোকন যারাই জড়িত থাকুক সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। সন্ত্রাসীরা গুলি করার পর আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ হিসেবে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। পুলিশের কেউ আহত হয়নি।’

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ লিংক রোড থেকে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় যেতে হয়। সেখানে তিন দশক ধরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর খাসজমি ইয়াছিন ও তাঁর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইয়াছিনের লোকদের অনুমতি ছাড়া সেখানে কেউ ঢুকতে পারত না। এখানে রাস্তা, স্কুল, ক্লিনিক সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করত ইয়াছিন। গত ৯ মার্চ যৌথ অভিযানে ইয়াছিন ও তাঁর বাহিনী পালিয়ে যায়। তবে পুরোনো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে।

মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ঢাকার সাভারে মাদক ব্যবসায় সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে ক্লোজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত