এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে গুঁড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই নিজেদের বিধ্বংসী শক্তিমত্তার জানান দিল ফ্রান্স। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে সুইডেনকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে অনায়াসে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
জোড়া গোল করে ফরাসিদের জয়ের নায়ক আরও একবার কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই জোড়া গোলেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়ার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির আরও কাছে পৌঁছে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম) আজ শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফরাসিদের হাতে। বলের দখল, আক্রমণের গতি আর সুযোগ তৈরি–সবকিছুতেই সুইডিশদের চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল তারা। প্রথম ৪৫ মিনিটে সুইডেনের ৩টি শটের বিপরীতে ফ্রান্স শট নিয়েছিল ১৫টি।
অবশ্য ম্যাচের শুরুটা ফরাসিদের জন্য ছিল আবেগের। মায়ের মৃত্যুর কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না কোচ দিদিয়ের দেশম। আজ তিনি ডাগআউটে ফিরতেই প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) উসমান দেম্বেলের সঙ্গে দারুণ এক ‘গিভ অ্যান্ড গো’ থেকে সুইডিশ ডিফেন্ডার ভিক্টর ইয়োকেরেসকে বোকা বানিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। গোল করেই মাঠের সব উদ্যাপন ভুলে এমবাপ্পে ছুটে যান ডাগআউটের দিকে, জড়িয়ে ধরেন শোকাতুর প্রিয় গুরুকে।
বিরতির পর আক্রমণ আরও শানিত করে ফ্রান্স। আর এই আক্রমণের মূল কারিগর ছিলেন উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে। গোল না পেলেও আজ ফ্রান্সের তিনটি গোলের পেছনেই অ্যাসিস্ট ছিল তার। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে স্বচ্ছন্দ ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
এরপর ৭৪ মিনিটে আবারও ওলিস-এমবাপ্পে জুটির ঝলক। ওলিসের চমৎকার রক্ষণচেরা পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই গোলেই বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮। পাশাপাশি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোলসংখ্যা বেড়ে হয় ১০, যা বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও ও লিওনিদাসকে (উভয়ের ৮ গোল)। একই সঙ্গে ২৯ ম্যাচ খেলা লিওনেল মেসির (১৯ গোল) চেয়ে তিনি এখন মাত্র ১ গোল পিছিয়ে আছেন।
নিউ জার্সির প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র গরম আর আর্দ্রতার মাঝে সুইডেনের আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও অ্যান্থনি এলাঙ্গাদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ ফরাসি রক্ষণকে তেমন কোনো পরীক্ষাতেই ফেলতে পারেনি। উল্টো সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না করলে সুইডেনের হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্যের পর নকআউটেও এমন দাপুটে সূচনা করে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচে ফরাসিদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।
