কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়িপেটা করল সন্ত্রাসীরা

শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তরের কুয়াকাটা প্রতিনিধি কেএম বাচ্চুকে হাতুড়ি পেটা করেছে সন্ত্রাসীরা । ঘটনার পর আহত বাচ্চু কে উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে কুয়াকাটা সৈকত হোটেলের সামনে ৫ থেকে ৬ জন সন্ত্রাসী তার উপরে অতর্কিত ভাবে হামলা করে ।

আহত সাংবাদিক কে এম বাচ্চু জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তরের কুয়াকাটা প্রতিনিধি এবং কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাংবাদিক কে এম বাচ্চু রাত ১১টার দিকে হোটেল সৈকতের সামনে বসে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেখানে বায়েজিদ নামের এক সন্ত্রাসী তার সাথে নিউজ সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে ঝামেলা তৈরি করার চেষ্টা করে। বাচ্চু এড়িয়ে যেতে চাইলে বায়েজিদের সহযোগীরা তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা বাচ্চুকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা অটোচালক জামাল মোল্লা জানান, ‘আমি যখন সৈকত হোটেলের সামনে আসি তখন বাচ্চু কে কিছু লোক জিজ্ঞাসা করছে আমার নিউজ করছো কেন? বাচ্চু সরে যাইতে চাইলে, সবাই মিলে তাকে হাঠাৎ মারধর শুরু করে। তার ডাক চিৎকারে লোকজন চলে আসলে তারা বাচ্চুকে ফেলে রেখে যায়। তখন আমরা উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ রিয়াজ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি মাত্র জেনেছি, এটি অত্যন্ত দু:খজনক। এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক জানান, ‘আমারা কুয়াকাটায় শান্ত রাজনীতি করি। এই শান্ত রাজনীতিকে যারা অশান্ত করার চেষ্টা করছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সম্পাদক মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিক বাচ্চু’র চেতনা ফিরে আসলেও এখনো তিনি কথা বলতে পারছেন না। তাই তাকে আহত করার সাথে কারা জড়িত এখনো তা সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘ হামলার সাথে যদি দলের কেউ জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেননা বিএনপিতে কোন সন্ত্রাসীর স্থান নেই। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বায়েজিদের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি ।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ঘটনার কথা শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত