বিশ্বকাপে শুরুটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারেনি ব্রাজিল
বিশ্বকাপের শুরুটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারেনি ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-র হাইভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ফলাফল যতটা হতাশাজনক, তার চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় ছিল ব্রাজিলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স। বিশেষ করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো, রক্ষণভাগের অসংগতি এবং আক্রমণে ধারাবাহিকতার অভাব নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে কার্লো আনচেলত্তির দলের সক্ষমতা নিয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো ছিল বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে আসা সেই গোল ব্রাজিলের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দেয়। ডিফেন্ডারদের অবস্থানগত ভুল এবং মিডফিল্ড থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা না পাওয়ায় মরক্কো সহজেই ফাঁকা জায়গা খুঁজে পেয়েছিল।
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মিডফিল্ডে। ক্যাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েসকে অনেক সময়ই মরক্কোর মিডফিল্ডাররা ছাপিয়ে গেছেন। ফলে বলের দখল থাকলেও খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি সেলেসাওরা। মরক্কো মাঝমাঠে সংখ্যাগত ও কৌশলগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বারবার আক্রমণ গড়েছে।
২. রক্ষণে অবস্থানগত ভুল
সাইবারির গোলের সময় ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ লাইন ছিল এলোমেলো। ফুলব্যাকরা অনেক ওপরে উঠে যাওয়ায় পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয় এবং মরক্কো সেই সুযোগ কাজে লাগায়। পুরো ম্যাচজুড়েই মরক্কোর দ্রুত ট্রানজিশনের বিপক্ষে অস্বস্তিতে দেখা গেছে ব্রাজিলকে।
৩. আক্রমণে সমন্বয়ের অভাব
ভিনিসিউস জুনিয়রের দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতা ফিরলেও দলগতভাবে ব্রাজিলের আক্রমণ খুব একটা কার্যকর ছিল না। রাফিনিয়া ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ, আর আক্রমণভাগে ধারাবাহিক সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে দলটি। বেশিরভাগ সময় ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
৪. মরক্কোর প্রেসিংয়ের জবাব দিতে না পারা
মরক্কো শুরু থেকেই উচ্চমাত্রার প্রেসিং করেছে। সেই চাপ সামলাতে গিয়ে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা বেশ কয়েকবার ভুল পাস দিয়েছেন এবং বল হারিয়েছেন। ফলে আক্রমণ গড়ার বদলে তাদের অনেক সময় নিজেদের অর্ধেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।
আনচেলত্তির সামনে এখন কী চ্যালেঞ্জ?
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে শুধু তারকা খেলোয়াড় থাকলেই হবে না, দলগত ভারসাম্যও জরুরি। আনচেলত্তিকে দ্রুত মিডফিল্ডের সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং রক্ষণভাগকে আরও সংগঠিত করতে হবে। অন্যথায় অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ও কৌশলগতভাবে পরিপক্ক দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিল বড় বিপদে পড়তে পারে।
