কথায় নয়, বর্তমান সরকার কাজে বিশ্বাসী: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কথায় নয়, বরং দৃশ্যমান কাজে বিশ্বাসী। আমাদের প্রধানমন্ত্রী কেবল মুখে প্রতিশ্রুতি দেন না, তা সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করছেন। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এ দেশে প্রকৃত কোনো উন্নয়ন হয়নি; বরং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশজুড়ে চলেছে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক বহুমুখী কল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এসব কথা বলেন।

সরকার ঘোষিত আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারা বিতরণ ও রোপণ, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীর নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, কৃষি বিভাগের আমন প্রণোদনা এবং সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।

অপরাহ্নে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হালদা নদীকে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের জন্য দেশের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও অনন্য স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, যেকোনো মূল্যে আমরা হালদা নদীর সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। হালদা নদীর ওপর নির্ভরশীল যেসব মৎস্যজীবী মা-মাছ ও রেণু রক্ষার স্বার্থে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন, তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমরা সেলাই মেশিন ও গবাদিপশু বিতরণ করছি।

সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে সরকারের সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজের অধিকাংশ পরিবারই অনেক সময় তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্যদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খায়। কিন্তু আমাদের মানবিক প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এসব মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। দেশে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ প্রত্যয়কে ধারণ করেই আজ হাটহাজারীতে আমরা এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সবুজায়ন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।

এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-৭ এর হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসপি সাইফুর রহমান, হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, একই দিন সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে উপস্থিত হন। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কর্তৃক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ ‘অনুপ্রেরণামূলক মতবিনিময় সভা’য় তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, বর্তমান সরকার প্রথাগত ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি সহ প্রায় ১০টি ধারা বা ব্যবস্থাপনা চালু রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সদয় নির্দেশনায় এবং সরকারের সুনির্দিষ্ট শিক্ষানীতি অনুসরণ করে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এসব শিক্ষা পদ্ধতি পরিচালনা করছেন। বর্তমান সরকার শিক্ষার মূল কারিকুলামের সাথে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে যুক্ত করেছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এই আধুনিক শিক্ষানীতি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মূল কারিগর হলেন শিক্ষকরা। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত ও সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো শিশু ঝরে না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, শিক্ষক সমাজ আমাদের অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। একটি আত্মনির্ভরশীল ও প্রগতিশীল জাতি গঠনে আপনাদের ভূমিকাই অগ্রগণ্য। পরিশেষে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন পূরণে সবাইকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত