হাসান হত্যা মামলার শুনানিতে আদালত চত্বরে স্বজনদের বিক্ষোভ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার আলোচিত হাসান হত্যা মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কয়রা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন নিহত হাসান সরদারের স্বজন ও এলাকাবাসী। এ সময় তাঁরা মামলার আসামিদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
মঙ্গলবার দুপুরে পাইকগাছা আদালতে বিচারক না থাকায় মামলার ৪ নম্বর আসামি আজহারুল ইসলামকে কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিহত হাসানের স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকেন। শুনানির সময় তাঁরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় নিহতের মা, স্ত্রী, দাদি ও বোন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের আহাজারিতে আদালত চত্বরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনেরা অভিযোগ করেন, হাসান হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
মামলার বাদী ও নিহতের বাবা আব্দুল মালেক সরদার বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চাঁদখালী বাজার এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে হাসান সরদারকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল মালেক সরদার বাদী হয়ে একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার প্রধান আসামিসহ ২ নম্বর আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
