বগুড়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা

শেয়ার করুন

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, বগুড়ায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, বগুড়ায় মোকদ্দমা নং-১৮০ সি/২০২৬ (সোনাতলা) হিসেবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী সোনাতলা উপজেলার এক বিধবা নারী, যিনি বর্তমানে বগুড়া সদরে বসবাস করছেন।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সোনাতলা উপজেলার সাতবাকী গ্রামের মো. সাদিক ব্যাপারী (২৫), পিতা- সাজ্জাত ব্যাপারী; একই গ্রামের মো. ঋাতু মিয়া (২৩), পিতা- আব্দুর রাজ্জাক; এবং হাঁসরাজ গ্রামের মো. হিরু মিয়া (৩০), পিতা- মো. খোরশেদকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়। ২০২৩ সালের ১৩ মে তার স্বামী হৃদরোগে মারা যাওয়ার পর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তার বোনের বাড়িতে যাতায়াতের সময় প্রধান আসামি মো. সাদিক ব্যাপারী তাকে বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রথমে তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পরে মোবাইল ফোন ও ইমো অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করে বিয়ের আশ্বাস দেন। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাদিক ব্যাপারী তাকে ফোন করে চরপাড়া বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলেন এবং সেদিনই বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। সেখানে গেলে অপর দুই আসামি ঋাতু মিয়া ও হিরু মিয়াসহ একটি সিএনজি অটোরিকশায় তাকে নিয়ে সোনাতলার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন। পরে কাজি আনার কথা বলে তাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে কাজি না এসে অপর দুই আসামি বাইরে চলে গেলে প্রধান আসামি মো. সাদিক ব্যাপারী ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এতে তিনি আহত হন। তার চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ঘটনাস্থলে থাকা অন্যরা প্রধান আসামিকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে তাকে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক ঘটনাটি পুলিশ কেস হওয়ায় থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এরপর থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি আদালতে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(১)/৩০ ধারায় বিচার প্রার্থনা করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে একাধিক সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ভিডিও, স্থিরচিত্র (ছবি) ও অন্যান্য আলামত আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট মো. নাহিদ পারভেজ জনি।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত