সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে হেয়ারকাট বাতিল, চাহিদা মতো টাকা তোলার সুযোগ
ইসলামী ধারার ৫টি ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীদের জন্য সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকরা প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারবেন। পাশাপাশি আমানতের মুনাফা থেকে কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন করা হবে না।
আজ মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলন করতে পারবেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওই স্কিমে নির্ধারিত সীমার বাইরেও ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের জমা অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। এ জন্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ স্কিমে প্রদত্ত নির্দেশনার বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। সুবিধাটি চালু করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুনাফায় কোনো ‘হেয়ারকাট’ হবে না
বৈঠকে আমানতকারীদের মুনাফা নিয়ে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করার বিষয়েও নির্দেশনা দেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এর আগে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনও কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সকল আমানতকারীকে এ মর্মে স্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে যে, আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।
দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফেরার নির্দেশ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন গভর্নর। ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির যাত্রা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চায়, নতুন এই ব্যাংকটি দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরে আসুক।
এ লক্ষ্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মধ্যে অর্থ উত্তোলন নিয়ে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেলে নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
