এফবিআই’র ড্রোন হ্যাকের দাবি ইরানি গ্রুপের, বিশ্বকাপে হামলার হুমকি

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকান সেনাবাহিনীর ড্রোন-বিরোধী স্কোয়াড্রনের একজন সেনা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্যবহৃতব্য সরঞ্জাম ও কৌশল প্রদর্শন করছেন।
শেয়ার করুন

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাকের দাবি করেছে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। সেইসঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলকে লক্ষ্য করে সাইবার ও ড্রোন হামলার হুমকি দিয়েছে। অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাতে শুক্রবার (১২ জুন) এ তথ্য জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস।

এই হ্যাকের খবর এমন সময়ে এলো যখন চলমান যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি ‘চূড়ান্ত’ পর্যায়ে রয়েছে বলে উভয় পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যদিও চুক্তির শর্ত নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন মতে, ‘হানদালা’ নামে ওই হ্যাকার গ্রুপের এক বিবৃতির বরাতে সাইট ইন্টেলিজেন্স জানায়, এফবিআইয়ের ব্যবহৃত এফপিভি (ফার্স্ট-পার্সন ভিউ) ড্রোনের ধারণ করা প্রতিটি ছবি ও সন্দেহভাজনদের তথ্যে তারা ‘কয়েক মাস ধরে’ প্রবেশ করছে।

হ্যাকাররা জানায়, ‘কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত এই ড্রোনগুলোতে মানুষের চেহারা শনাক্তকরণ ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের তথ্য পৃথক করার প্রযুক্তি রয়েছে’।

বিশ্বকাপে ড্রোন হামলার হুমকি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আপনাদের বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা দরকার। কারণ (অংশগ্রহণকারী) দলগুলোর কয়েকটিকে আমরা মোটেও পছন্দ করি না। ভুলে যাবেন না এফপিভি ড্রোন সব জায়গায় আছে। আপনারা কখনোই জানবেন না যে কখন একটি ড্রোন ঠিক কোন দলের বাসের ভেতরে গিয়ে হাজির হবে।’

এদিকে জানা গেছে, অননুমোদিত কোনো আকাশযান বা ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর চারপাশে ড্রোন মোতায়েন করছে এফবিআই। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট ইভেন্টগুলোতে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে।

হানদালা এমন কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে যেগুলো তাদের দাবি অনুযায়ী হ্যাক হওয়া ড্রোন থেকে নেওয়া। তবে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ দাবির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে।

তারা বলছে, হ্যাকিংয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখানো একটি ভিডিও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের। সেটি একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল। ওই ভিডিও টর্নেডোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজে মার্কিন পুলিশ বিভাগের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রচারণার অংশ ছিল।

চলতি বছরের মার্চে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবি করেছিল হানদালা। সেসময় অনলাইনে প্যাটেলের ব্যক্তিগত ছবি ও কিছু তথ্য প্রকাশ করেছিল তারা। এরপর এই হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের শনাক্ত করতে তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।


শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত