করিমগঞ্জে ধর্ষণে সন্তান জন্ম দিয়ে বিপাকে প্রতিবন্ধী কিশোরী, মামলা করায় পিতাকে হত্যার হুমকি
ধর্ষণে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী (১৫) কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে। কিন্ত দায়িত্ব নিতে নারাজ অভিযুক্তের পরিবার। এই ঘটনায় মামলা হলে ভিকটিমের পিতাকে দেওয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি। আর অভিযুক্তকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অবস্থায় ন্যায় বিচার নিয়ে সংশয়ে রয়েছে পরিবারটি।
ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের।
স্থানীয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র অটোচালকের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়েটিকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো প্রতিবেশী প্রভাবশালী হারুন মিয়ার ছেলে সানি (২০)। এ নিয়ে সানির পরিবারে বিচারপ্রার্থী হয়েও প্রতিকার পাননি কিশোরীর পিতা। গত বছরের ৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেয়েটি প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে সানি জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে আরো কয়েকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনার দায় এড়াতে গত বছরের ১০ জুন সানিকে কাতারে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভিকটিমের পরিবারের। নিরুপায় হয়ে গত বছরের ১৮ জুন সানিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে মামলা করেন মেয়েটির পিতা। আদালতের নির্দেশে করিমগঞ্জ থানায় ২৫ জুন মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্তকালে গত বছরের ৬ অক্টোবর ধর্ষণের শিকার মেয়েটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সানিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এদিকে মামলা চলাকালে ভিকটিমের পিতা সেনাবাহিনীর দ্বারস্ত হলে সেনাবাহিনীর নির্দেশে গত বছরের ২১ জুলাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে নানশ্রী বাজারে সালিশ হয়। সালিশে সানির পিতা হারুন মিয়া তার ছেলের দোষ স্বীকার করে ভরণপোষণ বাবদ ভিকটিমকে প্রতিবছর দুই লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। প্রথম বছরের দুই লাখ টাকাও প্রদান করেন। সালিশে হারুন মিয়া তার পুত্র সানিকে এক বছরের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনে সোপর্দ করারও অঙ্গীকার করেন। কিন্তু সেনাবাহিনী চলে যাবার পর বিগড়ে যান তিনি। সানিকে দেশে আনা তো দূরের কথা, মামলার বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আসামি সানির চাচা মোহাম্মদ জয়নাল জানান, ভাতিজা বিদেশ যাওয়ার পর জানানো হয় ঘটনাটি। আমরা সেটি বিশ্বাস করিনি। পরে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর জানান, সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের
উপস্থিতিতে সালিশে ভিকটিমের পরিবারকে প্রতিবছর দুই লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এক বছরের টাকা দিয়েছে। কিন্তু ছেলেটিকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী অশোক সরকার জানান, আসামির সঙ্গে ভিকটিমের জন্ম দেওয়া শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা এবং মামলার সাক্ষীদের দ্বারা ঘটনা প্রমাণ হলে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে। আর শিশুটির দায়দায়িত্ব আসামিকে নিতে হবে, এটিই আইনের বিধান।
